blogsboard

#global-village #political-science #geography-and-environment #psychology

13 Feb, 2022

দূরদর্শিতা বনাম এককেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা

দূরদর্শিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।


আমরা মাঝে মাঝেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অনেক কথাবার্তা শুনি। যেটা কে একটা সিংহভাগ মানুষ প্রায়শই সিরিয়াসলি নেয় না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কখনোই ম্যাসিভ স্কেলে রাতারাতি পাওয়া যায় না।


এখন যে মহামারী চলছে সেটা ঠেকাতেও দূরদর্শিতার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে প্রায় সব দেশেই। পরাক্রমশালী রাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা খাতে যে পরিমাণ বাজেট রাখে। যেন যুদ্ধের জন্য সব সময় প্রস্তুত। সবাই একে অপরের চেয়ে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার প্রচেষ্টা। যদিও সেটা অনেক ক্ষেত্রে অভিয়াস মনে হয়। দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধের প্রাণহানি সে ক্ষেত্রে একটা বিশাল মোটিভেশন।

কিন্তু ১৯১৮ সালের বিশ্বব্যাপী স্প্যানিশ ফ্লুর প্রাণহানির সংখ্যা কিন্তু প্রায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমান ছিল। আর শত শত বছরের পুরনো কলেরা, প্লেগ এর প্রাণহানি তো আছেই।
আশা করি এবারের ক্যাজুয়ালটি সংখ্যা ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট মোটিভেশন যোগাবে।

এ ধরনের একটি মহামারী সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির যে পরিমাণ ক্ষতি করে, যদি আগেভাগেই প্রতিরোধ হিসেবে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া থাকে। তাহলে হয়তো পরিস্থিতি এতটা বাজে অবস্থা হবে না।

পৃথিবী গরম হচ্ছে দিন দিন। দুই মেরুর বরফ গলছে আর তাতে সহস্র বছরের পুরনো অনুজীব, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এক্সপোজ হবে। যা কিনা হতে পারে আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমের জন্য একদমই নতুন কোনো শত্রু। চাঁদ থেকে ফেরার পর নীল আর্মস্ট্রংরাও প্রায় চৌদ্দ দিন কোয়ারেন্টাইনে ছিল চন্দ্র ফেরত সম্ভাব্য সংক্রমণ এড়ানোর জন্য। আমেরিকা আবিষ্কারের পর গ্রেট কলম্বাস যত জন না নেটিভ-আমেরিকানদের গুলি করে মেরেছিল, তার চেয়ে কয়েকগুন বেশী মেরেছিল নিজেদের সাথে বহন করে নিয়ে আসা অদৃশ্য অনুজীব দ্বারা তাদের সংক্রমিত করে।
তাই স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের পরিমাণ সকল পরাশক্তিরই বাড়ানো উচিত।

আর এই আধুনিক পৃথিবীতে এসে একবিংশ শতাব্দীতে এক দেশ আর দেশ যুদ্ধ লাগার ভয় থেকে বাঁচুক। এই মহাবিশ্বে থাকার জায়গা বলতে আমাদের এই একটাই পৃথিবী। রাজনৈতিকভাবে পৃথিবীতে অনেক গুলো দেশ থাকলেও, ভৌগোলিকভাবে তো পুরো পৃথিবী একসাথেই জোড়া।
শিল্পায়ন, নগরায়ন আর লোভের এই যুগে সবাই চিন্তা ভাবনা যদি এককেন্দ্রিক করে রাখে। এই এককেন্দ্রীক চিন্তাভাবনা হয়তো পৃথিবীর ধ্বংস ডেকে আনবে। অ্যামাজন জঙ্গল ব্রাজিল এর কাছে বড় একটা ঝামেলা। এই পুরো জঙ্গল সাফ করে গরু পালতে পারলে, সেগুলো ট্রাম্পের দেশে রপ্তানি করে ব্রাজিলের অর্থনীতি বেশ পোক্ত হয়ে উঠতে পারে। তাতে তাদের রাষ্ট্রপতিও খুশি আর আমজনতাও খুশি। রাষ্ট্রপতি সাহেবেরও পরেরবার নির্বাচিত হওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী চিন্তার চেয়ে স্বল্পমেয়াদী চিন্তাই লাভজনক।
সমস্যাটা এখানেই যদি আমরা অ্যামাজন জঙ্গল, এর ভূবৈচিত্র শুধুমাত্র একটি দেশের চিন্তা করি। যেখানে এর প্রভাব পুরো পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত থাকে।

একইভাবে কার্বন ফুটপৃন্ট এর উপরেও কড়াকড়িভাবে অর্থারোপ না করা হলে শিল্পায়নের যুগে সবাই পাশের দেশ থেকে এগিয়ে থাকার জন্য ফুরিয়ে যাওয়ার আগ অব্দি জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়তেই থাকবে। আর তাতেই কিন্তু ভুটানের মত শান্তিপ্রিয় অনেক দেশের শান্তি বিনষ্ট হবে।

শর্ট টার্ম প্রফিট এর কথা চিন্তা করলে অনেক কিছুই লজিক্যাল মনে হয়। এই যেমন পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েই যাচ্ছে। বরাবরের মতই এতে সেখানকার শাসনকর্তারাও খুশি, আমজনতাও খুশি, আর তাদের সুগারড্যাডিও খুশি। পঞ্চাশ একশো বছর পরের চিন্তা করে তো স্বয়ং রাষ্ট্র ছাড়া কারোরই লাভ থাকার কথা না। আর রাষ্ট্রের তো এতকিছু নিজে নিজে বোঝার মত ক্ষমতা নেই।

Get Free Live Classes and Tests on the Sohopathi App