blogsboard

#shahjalal-university-of-science-&-technology #university

13 Feb, 2022

ভার্সিটি পরিচয়: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় SUST

দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ইচ্ছুক অনেকেরই ভর্তির ক্ষেত্রে প্রথমদিকের পছন্দ থাকে শাবিপ্রবি।

৩২০ একরের টিলাঘেরা স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আগেই কিছু তথ্য জেনে নেইঃ

১) শাবিপ্রবি বাংলাদেশের প্রথম ও সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

২) বাংলাদেশের পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার পদ্ধতি প্রথম এখানথেকেই শুরু হয়।

৩) শাবিপ্রবির হাত ধরেই আজ এসএমএস এর মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি শুরু হয়েছে।

৪) বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা শাবিপ্রবিরই একটি প্রজেক্ট।

৫) ন্যাশনাল & ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় শাবিপ্রবির সুনাম দীর্ঘদিনের।

৬) বাংলাদেশের প্রথম পুরো ক্যাম্পাসে হাইস্পিড ওয়াইফাই চালু করে এই শাবিপ্রবিই।

৭) শাবিপ্রবির হাতধরেই আইপিই, এফইটি, পিএমই র মত ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশে এসেছে।

৮) বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ইউনিভার্সিটি যেখানে দুইটি বিষয়ে একসাথে অনার্স করতে পারবে। মেজর সাব্জেক্টের পাশাপাশি অন্য যে সাব্জেক্টে অনার্স করবে সেটাকে বলা হয় সেকেন্ড মেজর। পোষ্টের নিচের অংশে এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

২. কেন পড়বে শাবিপ্রবিতে:

১) অনেককেই দেখেছি যাদের স্বপ্ন শুধুই শাবিপ্রবি। যদি তোমার স্বপ্নও শাবিপ্রবি হয়ে থাকে তাহলে তো আর অন্য কোন কারনই লাগে না।

২) যাদের ইঞ্জিনিরিং পড়ার সখ কিন্তু কোন কারনে এইচ এস সি তে রেজাল্ট খারাপ হয়ে গেছে আর তোমরা ভাবছো তোমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন শেষ, তাদের জন্য বড় একটা দরজা খোলা রেখেছে শাবিপ্রবি। এখানে এসএসসি আর এইচ এস সি মিলিয়ে ১০ এর মধ্যে মাত্র ৭ পয়েন্ট থাকলেই পরীক্ষা দিতে পারবে।

৩)শাবিপ্রবির ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট গুলো অনেক মানসম্মত এবং রিচ। তাই এডুকেশন কোয়ালিটি নিয়ে তোমাদের চিন্তার কোন কারন নেই। শাবিপ্রবির সিএসই, ইইই, আইপিই, সিইপি, সিইই, জিইবি সাবজেক্ট গুলো বাংলাদেশের যেকোন ইঞ্জিনিয়ারিং/পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবজেক্টগুলো থেকে খারাপ নয়। এছাড়া এখানে আইপিই, সিইই & সিইপি আই ই বি সার্টিফাইড সুতরাং চিন্তার কোন কারন নেই।

৪) এরকম সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ আমার মনেহয় খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে। এক কিলো, আসেপাশের টিলা, গাছপালায় ঘেরা সবুজ ক্যাম্পাস আশা করি তোমাদের মন জয় করবেই।

৩. ভর্তিযোগ্যতা:

ভর্তির জন্য মোট দুইটি ইউনিট A এবং B ইউনিট এ ভাগ করা হয়।

A ইউনিটে রয়েছে আর্টস এর সকল সাবজেক্ট সহ বিবিএ। এই ইউনিটে সায়েন্স আর্টস কমার্স সবাই এপ্লাই করতে পারবে।

B ইউনিটকে B1 & B2 তে ভাগ করা হয়। B1 ইঞ্জিনিয়ারিং সহ সকল সায়েন্সের সাবজেক্ট গুলোর জন্য। আর B2 শুধু আরকিটেকচারের জন্য (আলাদা করে ড্রয়িং এক্সাম দিতে হয়। বি১ এর এক্সামের পর আলাদা করে ড্রয়িং পরীক্ষা হয়)। তবে কেউ যদি B2 তে এপ্লাই করে তবে তাকে আর B1 এ এপ্লাই করতে হয় না। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি ড্রয়িং এ খারাপ করে আর B1 এর পরীক্ষায় ভাল করে তবে সে B1 এর সাবজেক্ট গুলোতে ভর্তি হতে পারবে। এই ইউনিটে শুধু মাত্র সায়েন্স এর স্টুডেন্ট & ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করা স্টুডেন্টরাই এপ্লাই করতে পারবে।

৩.১ এ ইউনিটে ভর্তি যোগ্যতা:

যে বছরে ভর্তি পরীক্ষা দিবে অবশ্যই সে বছর বা তার আগের বছরে এইচ এস সি পাশ করতে হবে। যেমন তুমি যদি ২০১৮ সালে পরীক্ষা দাও তবে তোমাকে অবশ্যই ২০১৭/২০১৮ সালে এইচ এস সি পরীক্ষা দিতে হবে। এস এস সি & এইচ এস সি তে নুন্যতম ৩ সহ সব মিলিয়ে ১০ এর মধ্যে মিনিমাম ৬.৫ পেতে হবে। O লেভেলে কম্পক্ষে ৩ টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৫ টি বিষয়ে পাশ এবং A লেভেলে ২টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৩ টি বিষয়ে পাশ করতে হবে।

A ইউনিটের আসন সংখ্যা

৩.২ বি ইউনিটে ভর্তি যোগ্যতা:

*যে বছরে ভর্তি পরীক্ষা দিবে অবশ্যই সে বছর বা তার আগের বছরে এইচ এস সি পাশ করতে হবে। যেমন তুমি যদি ২০১৮ সালে পরীক্ষা দাও তবে তোমাকে অবশ্যই ২০১৭/২০১৮ সালে এইচ এস সি পরীক্ষা দিতে হবে। * এস এস সি & এইচ এস সি তে নুন্যতম ৩ সহ সব মিলিয়ে ১০ এর মধ্যে মিনিমাম ৭.৫ পেতে হবে। * O লেভেলে কম্পক্ষে ৩ টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৫ টি বিষয়ে পাশ এবং A লেভেলে ২টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৩ টি বিষয়ে পাশ করতে হবে।

B ইউনিটের আসন সংখ্যা

বিঃদ্রঃ বিশেষ বিশেষ সাবজেক্ট এর জন্য কিছু বিশেষ বিশেষ সাব্জেক্টের রিকোয়ারমেন্ট থাকে। যেমন কেউ যদি এইচ এস সিতে ফিজিক্স আর ম্যাথে ৩.৫ এর নিচে পায় তবে সে ভর্তি পরীক্ষায় যতই ভাল করুক ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হতে পারবে না। নিচের ইমেজ টা দেখলে ক্লিয়ার হয়ে যাবা আশা করি।

নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তি যোগ্যতা

৪. পরীক্ষা পদ্ধতি এবং মান বন্টনঃ

জিপিএ স্কোর এবং ভর্তি পরীক্ষার নাম্বার মিলিয়ে মোট ১০০ মার্ক্স থাকবে। যার মধ্যে জিপিএ স্কোর থাকবে ৩০। এবং ভর্তি পরীক্ষায় ৭০ মার্ক্স থাকবে। ৩০ মার্ক্স হিসেব করা হবে তোমার এস এসসি এবং এইচ এস সি পরীক্ষার জিপিএ থেকে। যারা চলতি বছরেই এইচ এস সি এক্সাম দিয়েছো(ফার্স্ট টাইমার) তাদের জন্য তোমার মোট জিপিএ (SSC+HSC) কে গুন করা হবে ৩ দিয়ে। আর যারা আগের বছর এক্সাম দিয়েছো তাদের মোট জিপিএ (SSC+HSC) কে গুন করা হবে ২.৭ দিয়ে। আর যারা ডিপ্লোমা করে আসবা তাদের এসএসসির সাথে ডিপ্লোমাতে প্রাপ্ত সিজিপিএ যোগ হবে। এক্ষেত্রে সিজিপিএ ৫ এ কনভার্ট করা হবে,এবং এর পর SSC এর সাথে যোগ হবে। যেমনঃ মনে করো,

এসএসসিতে জিপিএ- ৪.৫

এইচ এসসিতে জিপিএ- ৪.৯

তাহলে তুমি যদি রেগুলার ছাত্র হয়ে থাকো (ফার্স্ট টাইমার) তবে তোমার স্কোর হবে,

(৪.৫*৪.৯)= ২৮.২ আউট অফ ৩০

আর যদি আগের বছরে এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়ে থাকো( সেকেন্ড টাইমার) তবে তোমার জিপিএ স্কোর হবে, (৪.৫*৪.৯)= ২৫.৩৮ আউট অফ ৩০

বাকি ৭০ মার্ক্সের বন্টন বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন। প্রতিটি পরীক্ষায় ৭০ টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি ঠিক উত্তরের জন্য ১ মার্ক্স পাওয়া যাবে। এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২০ মার্ক্স কাটা যাবে।

৪.১ A ইউনিটঃ

এপ্লাই করতে পারবে সায়েন্স, আর্টস, কমার্স সকলেই। সকল বিভাগের জন্য পরীক্ষার মান বন্টন দেয়া হল।

সায়েন্সঃইংরেজী- ২০বাংলা- ১০পদার্থ বিজ্ঞান- ১০রসায়ন- ১০গণিত/জীববিজ্ঞান- ১০ সাধারণ জ্ঞান- ১০

মোটঃ ৭০

আর্টসঃ ইংরেজী- ২০বাংলা- ১০অর্থনীতি,পৌরনীতি,যুক্তিবিদ্যা,সমাজবিজ্ঞান,সমাজকল্যান, ইতিহাস এবং ইসলামের ইতিহাস, সাধারণ জ্ঞান - ৩০মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত ১০

মোটঃ ৭০

কমার্সঃইংরেজী- ২০বাংলা- ১০হিসাব বিজ্ঞান,ব্যাবসায়নীতি ও প্রয়োগ, সাধারণ জ্ঞান ৩০মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত ১০

মোটঃ ৭০

৪.২ B ইউনিট:

ইংরেজী- ১০পদার্থবিজ্ঞান- ২০রসায়ন- ২০গণিত- ২০

মোটঃ ৭০

বিঃদ্রঃ যারা বি ২ ( আর্কিটেকচার) তে এক্সাম দিবা তাদের জন্য আলাদা করে ১ ঘন্টা ড্রয়িং এবং এই ব্যাপারে সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা দিতে হবে। মার্ক্স থাকবে ৩০. যারা ডিপ্লোমা করে সাস্টে পরীক্ষা দিবা তাদেরও এই সাব্জেক্ট গুলোতেই ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে।

Get Free Live Classes and Tests on the Sohopathi App